আজমল হক ১৯৬২ সালে গফরগাঁওয়ে সমীর উদ্দিন সরকার ও আম্বিয়া খাতুনের ঘরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বাবা ও মায়ের তত্ত্বাবধানে বড় হয়ে উঠেন। তাঁর বাবা পেশায় একজন ব্যবসায়ী এবং তাঁর মা ছিলেন গৃহিণী। তিনিও তাঁর পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে নিজেও একজন ব্যবসায়ী হয়ে ওঠেন। তাঁর পুরো জীবন তিনি তাঁর পরিবারের পাশাপাশি অন্যদের প্রয়োজন সম্পর্কে খুবই সুনির্দিষ্ট এবং সক্রিয় ছিলেন। তিনি তাঁর বন্ধুদের কাছে প্রিয় এবং সকলের কাছে সম্মানিত ছিলেন।
পুরো জীবন ব্যবসায় নিয়োজিত থাকলেও তিনি সবসময় শিক্ষার পক্ষে ছিলেন। 'শিক্ষাই দিতে পারে উন্নত জীবন' এই ধারণায় তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন। তাই তিনি তাঁর সন্তানদের ভাল শিক্ষা প্রদানের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করে গেছেন এবং সেইসাথে তিনি সবসময় অন্যদেরকেও এই বিষয়ে উৎসাহিত করার চেষ্টা অব্যহত রেখেছেন। প্রেক্ষাপট, সময় বা পরিস্থিতি যাই হোক না কেন তিনি শিশুদের জন্য মানসম্পন্ন শিক্ষার ব্যাপারে পিছপা হননি। এমনকি কঠিন আর্থিক পরিস্থিতিতেও, তিনি তাঁর সন্তানের শিক্ষাকে সর্বদা তালিকার শীর্ষে রেখেছেন। তিনি শিশুদের উন্নত শিক্ষা নিশ্চিত করতে সবসময় গঠনমূলক পরিবর্তনকে সমর্থন করেছেন।
জীবন যতই প্রাণবন্ত হোক না কেন, সবকিছুই শেষ হয়ে যায়। ২০০৮ সালের শুরুর দিকে তিনি ভুল রোগ নির্ণয়ের স্বীকার হয়ে ক্যান্সারে আক্রান্ত হন এবং সঠিক রোগ নির্ণয় করতে দেরির কারণে, তাঁর জীবন বাঁচাতে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল। এমনকি তাঁর শেষ সময়েও তিনি কখনই তাঁর পরিবার এবং নিজের উপর আশা হারাননি। তিনি 'ক্যান্সারের' বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয়ী হওয়ার জন্য কঠোর এবং দীর্ঘ লড়াই করে গেছেন কিন্তু সর্বশক্তিমান আল্লাহ্র ইচ্ছায় তিনি ২০১০ সালের ১৯শে ফেব্রুয়ারি মৃত্যু বরণ করেন। তিনি চলে গেলেও তাঁর প্রিয় পরিবারের জন্য রেখে গেছেন উদারতা, নৈতিকতা আর সততার শিক্ষা।